
তাঁর সম্পর্কে তাঁর সতীর্থ দিলীপ দোশির মন্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য।
“একটু ভাবুন কপিলের কথা! ভারতের ঐসব নির্দয়, নিথর পিচে একাই বল করে যাচ্ছেন, অপর প্রান্ত থেকে তেমন সাহায্য করার কেউ নেই! অপরপ্রান্তে তাঁর সঙ্গী ছিলেন, একে একে, গাভরি, বিনি, মদনলাল, টি শেখর, সান্ধু, পাতিল, চেতন শর্মা, যোগরাজ সিং, বি অরুণ, প্রভাকর, শ্রীনাথ! ফলে কোন একজনের সঙ্গে তাঁর জুটি তৈরি হয়নি যাঁর সঙ্গে তিনি পরিকল্পনামাফিক যৌথভাবে আক্রমণ শানাতে পারতেন। তা ছাড়া পুরনো বলেও কপিল খুবই বিপজ্জনক বোলার কারণ উনি দীর্ঘক্ষণ ধরে অফ কাটারও দিতে পারতেন। ওঁর মিডল স্টাম্প আর লেগ স্টাম্পের কাছ থেকে ঢুকে আসা লেট আউটস্যুইংগারগুলোও ছিল ভয়ংকর। অনেকটা যেন খুব দ্রুত লেগ স্পিন করে বল চলে আসছে।” সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে, কপিলের দুর্দান্ত বোলিং এর কী দুরন্ত বিবরণ না! সবশেষে দোশি তাঁর রায় দিচ্ছেন, “এককথায়, কপিল একার হাতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখতেন!”
ভাবলে আমাদের খুবই ভালো লাগে যে এই মানুষটির উত্থানের আমরা প্রত্যক্ষদর্শী। তাই চেয়েছিলাম আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বিস্তারিত ভাবে তাঁর কথা জানাতে। কীভাবে হরিয়ানার এক গণ্ডগ্রাম থেকে আসা কিশোর ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রকেই পালটে দিলেন।
আমরা খুবই সৌভাগ্যবান যে তাঁর সময়কার ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে সুনীল গাভাসকার, বিশ্বনাথ, প্রমুখরা তাঁর কথা জানিয়েছেন। ১৯৮৩ সালের তাঁর দলের সতীর্থরা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাঁরা যখন গ্রুপ পর্বেই বিদায়ের কথা ভেবে রেখেছিলেন, একমাত্র কপিলদেবই স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপ জয়ের। তাঁর উদ্দীপনার পরশরাগে রঞ্জিত হয়েই তাঁরাও সেই ঐতিহাসিক ঘটনায় শামিল হয়েছিলেন।
এটা ঠিকই যে ক্রিকেট এখন অনেক পালটে গেছে। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছিল বাংলা ভাষায় কপিলদেব কে নিয়ে একটি বইয়ের আশু প্রয়োজন। তাহলে আজকের নব প্রজন্ম এমন অনেক কথা জানতে পারবে যা তাঁদের সেই যুগ সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল করে তুলবে। আজ যখন তাঁরা কোন সময় রেডিও বা টিভিতে কপিলের কথা শুনবেন, তাঁদের মনে পড়ে যাবে এই বইয়ে পড়া কিছু কথা, তাঁদের হৃদয় উদ্বেল হবে। আর আমাদের সমকালীন যাঁরা? তাঁরা হয়তো এই বইয়ের মাধ্যমে তাঁদের তরুণ বন্ধুদের কাছে আলোচনাযোগ্য কিছু বিষয়ের অবতারণার সুযোগ পাবেন।
কপিলের ক্রিকেট-জীবনের সাক্ষী এবং অনুরাগী হিসেবে আমাদের দৃঢ় ধারণা যে কপিলের এই ক্রিকেটের ‘যাত্রাপথের আনন্দগানে’র কথা আমাদের পরের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন আছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে আমরা গবেষণা করেছি যাতে আমরা একটি তথ্যনিষ্ঠ, সুখপাঠ্য, মনোগ্রাহী গ্রন্থ পাঠকদের উপহার দিতে পারি। আমাদের লেখার ভিত্তি হ’ল আমাদের স্বচক্ষে দেখা খেলাগুলি এবং তারই সঙ্গে এই খেলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গ্রন্থ পাঠের অভিজ্ঞতা। আমাদের প্রচেষ্টা একটি নিরপেক্ষ, যুক্তিপূর্ণ এবং সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন পেশ করার।
আমাদের বিনম্র নিবেদন এই গ্রন্থটি – “কৃতজ্ঞ দেশের তরফ থেকে একটি প্রশস্তিপত্র, এমন এক মানুষকে যিনি ভারতীয় ক্রিকেট ও ক্রীড়া জগতে অসামান্য অবদান রেখেছেন।” – (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে কপিলকে প্রদত্ত প্রশস্তি পত্রের অংশবিশেষ।)
বইয়ের সূচীপত্র –


বইটির প্রাপ্তিস্থান
১ সৃষ্টিসুখ –
JUNE20 কুপন কোড ব্যবহার করে বাড়ি বসে পান কলেজ স্ট্রিটের ২০% ছাড়।
এছাড়া ৫০০ টাকার কেনাকাটায় শিপিং ফ্রি।
২ – অ্যামাজন https://www.amazon.in/dp/B0GRHJVBDX