আমাকে ভাবায় – সুকুমার রায়

এক জনপ্রিয় বাঙালী তাঁকে নিয়ে গান বেঁধেছেন –

কথার ছন্দ , পদ্য ছোটায় / আমাকে ভাবায়, সুকুমার রায়

অন্য একটি গানেও তিনি লিখলেন –

“শীর্ষেন্দুর কোন নতুন নভেলে,
হঠাৎ পড়তে বসা আবোল তাবোলে,
অবোধ্য কবিতায় ঠুমড়ি খেয়ালে,
স্লোগানে স্লোগানে ঢাকা দেয়ালে দেয়ালে”  
————
– তোমাকে চাই !!
ফেলুদা আর ব্যোমকেশ – বাঙালীর দুই প্রিয়তম চরিত্রই গভীর অনুসন্ধানের মুহূর্তে তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেছে।  তিনি জড়িয়ে আছেন আমাদের প্রত্যেক দিনে, কাজে কর্মে, অবসরে, লোভে, ক্ষুধায়।
মাত্র ৩৬ বছর আয়ুস্কাল। জীবনকালে কিছুই দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরই তাঁকে নিয়ে বিশেষ চর্চার শুরু।
এই ছোট্ট প্রতিবেদনে রইল কিছু আলাপ।

-১-

সুকুমার রায় এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তাঁর সাহিত্য রচনাকালটি  আশ্চর্যরকমভাবে সংক্ষিপ্ত। জন্ম – ১৮৮৭ আর মৃত্যু ১৯২৩! এর মধ্যেও তিনি শেষের দিকে বছর আড়াই অসুস্থ ছিলেন। তিনি প্রথাগতভাবে আদপেই সাহিত্যের ছাত্র নন, বরং বিজ্ঞানের দুই শাখাতে, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা, তিনি সম্মানিত স্নাতক। এছাড়া বিদেশেও ছিলেন বেশ কিছুদিন। ফলত: তাঁর সাহিত্যরচনার কাল মাত্র কয়েক বছরের। কিন্তু মাত্র এই কয়েক বছরেই তিনি বাংলা সাহিত্যকে দুহাতে দান করে গেছেন।

শুরুতেই মনে পড়ে এক অন্য কথা। আমাদের সকলের প্রিয় চরিত্র ব্যোমকেশ-সত্যবতী-অজিত। সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, চল্লিশের দশক। সত্যবতী সদ্য পুত্রবতী হয়েছেন। আদরের ‘খোকা’র জন্য তাঁর সাহিত্যিক বন্ধু অজিত একটি আবোল-তাবোল কিনে দিয়েছিলেন। শ্রী পল্লব চট্টোপাধ্যায়ের লেখাতে পাচ্ছি –

“আদিম রিপু’ উপন্যাসে ব্যোমকেশ পেলেন এক নতুন ধরনের কাব্য-রসের সন্ধান। অজিত খোকাকে সুকুমার রায়ের লেখা বিখ্যাত ছড়ার বই ‘আবোল-তাবোল’ উপহার দেন, আর ব্যোমকেশের সেটা খুবই ভাল লেগে যায়। রসিক পাঠকমাত্রেই জানেন যে আবোল-তাবোলের আপাত-নিরীহ হাসির ছড়াগুলির মধ্যে কবির তীক্ষ্ণ অবলোকনে ধরা পড়া কিছু মজা আছে, কিছু ব্যঙ্গ, কিছু আজগুবি কাণ্ড ও কিছু সত্য-কথন। তার আগে মিস ননীবালা রায়কে দেখে ব্যোমকেশ রবি ঠাকুর আউড়েছিলেন বটে ‘চিত্রা’ থেকে- ‘জগতের মাঝে কত বিচিত্র তুমি হে, তুমি বিচিত্ররূপিণী’। এবার সুকুমার রায় পড়ার প্রতিক্রিয়াটা কি হল দেখা যাক। ব্যোমকেশ অনাদি- হত্যারহস্য নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। অজিত প্রশ্ন করায় অন্যমনস্ক উত্তর- ‘আকাশের গায়ে নাকি টক টক গন্ধ?’ আবার একসময় অনাদির দয়ালহরি মজুমদারকে বিনা বন্ধকীতে টাকা ধার দেওয়ায় ব্যোমকেশ বলে- ‘বানরে সঙ্গীত গায় শিলা জলে ভেসে যায় দেখিলেও না হয় প্রত্যয়’। অজিত জানতে চান এতে তাঁর কি সন্দেহ হয়। ‘দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম’- আবার আবোল-তাবোল। প্রভাত অজিতের গুণমুগ্ধ, তাঁর বই ছাপতে চায়, অজিত খুশী হয়ে প্রভাতের রুচির প্রশংসা করায় ব্যোমকেশের নির্বিকার উত্তর- ‘প্যাঁচা কয় প্যাঁচানী, খাসা তোর চেঁচানি’। বলা বাহুল্য, ব্যঙ্গটা উহ্য নয়! শেষে যখন নোট-ভরা বই সরাবার সময় প্রভাতকে হাতেনাতে ধরতে এসে দুজনে ঘাপটি মেরে বসে থাকে, সেখানেও আবোল-তাবোল- “গুড়-গুড়-গুড় গুড়িয়ে হামা, খাপ পেতেছেন গোষ্ঠমামা…।‘-

আর, আজও বাংলার শিশুদের মনে প্রথম বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে আবোল-তাবোলের মাধ্যমেই। কিন্তু, তিনি কি নেহাৎ শিশু-সাহিত্যিক! একটু ভেবে দেখা যাক। ঐ যে একটু আগে বললাম, ব্যোমকেশের কথা। শিশুর জন্য কেনা বইটি তাঁর মতন ‘সত্যান্বেষী’ কেও রীতিমতো মুগ্ধ করেছিল।

লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর সাহিত্য কর্মের মূল্যায়ন করেছেন এভাবে, —

“সত্যেন দত্ত ও নজরুলের মাঝখানে এসেছিলেন সুকুমার রায়, বাংলা কবিতার আলোচনায় তাঁর নাম আসে না। তাঁকে সরিয়ে রাখা হয়েছে শিশু সাহিত্যের এলাকায়। ——শব্দ ব্যবহারে দারুণ দক্ষতা, আর কিছুদিন সময় পেলে বড়দের রচনায় প্রবেশ করলে হয়তো অন্য কীর্তি স্থাপন করতে পারতেন। তিনি যা লিখে গেছেন, তারও মাঝে মাঝে রয়েছে আধুনিক, পরিপূর্ণ মনস্কতার ইঙ্গিত।

‘আজকে আমার মনের মাঝে / ধাঁই ধপাধপ্‌ তব্‌লা বাজে-

রাম-খটাখট্‌ ঘ্যাচাং ঘ্যাঁচ্‌ / কথায় কাটে কথার প্যাঁচ্‌।

আলোয় ঢাকা অন্ধকার, / ঘণ্টা বাজে গন্ধে তার।

গোপন প্রাণে স্বপন দূত, / মঞ্চে নাচেন পঞ্চ ভূত!’

–         কি নিতান্ত শিশুপাঠ্য রচনা? সুকুমার রায়ের রচনা আজও সমবয়স্ক পাঠকদেরই টেনে রাখে।    — ২

বুদ্ধদেব বসুই প্রথম স্বীকৃতি জানান তাঁকে – তাঁর “আধুনিক বাংলা কবিতা” শীর্ষক গ্রন্থটিতে জায়গা করে নিয়েছে সুকুমার রায়ের (বইতে পদবি আছে রায়চৌধুরী) একটি-দুটি নয়, পাঁচ-পাঁচটি কবিতা। সেগুলি – শব্দকল্পদ্রুম, রামগরুড়ের ছানা, হুলোর গান, শুনেছ কি বলে গেলো আর আবোল তাবোল। মনে রাখার বিষয় এই সংকলনটি মোটামুটি বাংলা কবিতার একটি আকর গ্রন্থ বলে খ্যাত। ১৯৪০ সালে বইটি প্রথম প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত প্রথম সংস্করণের প্রকাশ মার্চ, ১৯৫৪। —-    ৩

সাহিত্যিক শেখর বসু লিখেছেন, –

“তাঁর মৃত্যুর পরে প্রায় একশো বছর হতে চলল, কিন্তু আজও আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় তিনি অতিমাত্রায় প্রাসঙ্গিক। তাঁর বিচিত্র শব্দ-ব্যবহার, লেখার লাইন, চরিত্রের নাম কী অক্লেশে আমাদের কথাবার্তার মধ্যে ঢুকে পড়ে। তাঁর একটিমাত্র কথা ব্যবহার করে দশটি কথা বলে ফেলার ফল পাই আমরা।”     —-    ৪

একেবারে সঠিক মূল্যায়ন। জীবনের চলার পথে নিত্যই আমরা বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করি। তারা ছায়া ফেলেন আমাদের জীবনে, তাদের নিয়ে অনেক মজার বা আনন্দের ঘটনার ও প্রত্যক্ষদর্শী হই আমরা।

-২-

বাংলার শিশুরা নিশ্চয় ভাগ্যবান, কারণ তাদের জন্য সাহিত্য কর্মে ব্যাপৃত ছিলেন সমগ্র রায়চৌধুরী পরিবার। সুকুমার তাঁদের অগ্রগণ্য, বাংলার শিশু ও কিশোর সাহিত্যকে তিনি অসামান্য ভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলি আমাদের মনে কোণে একেবারে খোদাই হয়ে আছে। কবিতাতে পরে আসছি, গল্পগুলো আলোচনা করলেই দেখা যাবে তাঁর আঙ্গিকের আর বিষয়বৈচিত্র্যের পরিধি এবং গভীরতা।

‘দাশু’ কে আমাদের এত মনের কাছে এনে দিলেন তিনি কি করে? কম বেশী এই ধরনের ঘটনা তো আমরা অনেক ঘটতে দেখেছি। স্কুলে আমরা সকলেই পড়েছি। এরকম দুষ্টু ছেলের সংখ্যা তো কম ছিল না। আমাদের সকলের এরকম প্রচুর অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই সেই চরিত্র যখন বই থেকে আমাদের জীবনে একেবারে উঠে আসে।

‘পাগলা দাশু’র গল্পে রামপদ, মাস্টারমশাই, নবীনচাঁদ, জগবন্ধু, রাখাল, – এই সব পার্শ্ব চরিত্রগুলিও এত জীবন্ত যে তারা সহজেই আমাদের খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে। একই কথা অন্যান্য গল্পের নন্দলাল, ভোলানাথ, শ্যামচাঁদ, ব্যোমকেশ সম্পর্কেও প্রযোজ্য। এই চরিত্র চিত্রণের সাফল্যের পিছনে রয়েছে সুকুমারের অসামান্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর তাকে শিল্পসম্মতভাবে, আয়াসহীনভাবে গল্পের চরিত্র করে তোলার অবিস্মরণীয় শিল্পপ্রতিভা। এই দুইয়ের অনবদ্য সমন্বয়ের ফলে তাঁর সৃষ্টি আজো অমলিন। তিনি আজও এমনই প্রাসঙ্গিক যা ছিলেন প্রায় শতবর্ষ পূর্বে। দুটি একটি গল্পকে নিয়ে আলোচনা করাই যেতে পারে।

আমার মনে হয় আজও ‘রাজার অসুখ’ গল্পটি আমাদের রীতিমতো ভাবাতে পারে। সেই রাজা তার এত ক্ষমতা, সেও তো সুখের খোঁজ পায়না। সুখী লোকের খোঁজ ও পাওয়া গেল। কে সেই সুখী লোক – না যে লোকটা বাজারে বসে আছে, রোজ ভরপেট খেতেও পায় না! কিন্তু সমস্যা হোল, সন্ন্যাসীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সেই লোকটার জামা আর তোষক যোগাড় করতে হবে! তা সেই শুনে সুখী লোকের কি হাসি!! ‘জামা’ – হো হো, সে খালি গায়ে থাকে, আবার ‘তোষক’ – সে বলে কিনা  মাটিতে শোয়।

গল্পটি সম্ভবত তাঁর সুযোগ্য পুত্র পরিচালক সত্যজিৎ কেও অনুপ্রাণিত করে থাকবে – তিনি যখন লেখেন,

এক যে ছিল রাজা, তার ভারী দুখ” – বা “যার ভাণ্ডারে রাশি রাশি সোনা দানা ঠাসাঠাসি তারও হয়, যেন সেও সুখী নয়”!

অথচ গল্পের আঙ্গিকে কিন্তু একেবারেই লঘু বা তরল ভাব। কোন ভাবেই ধরার উপায় নেই যে খুব মজার ছলে এক গূঢ় দর্শন পরিবেশিত হয়ে গেল।

বা ধরা যাক ‘ভুল গল্প’ !! হয়তো বিদেশে এইরকম কোন গল্প থেকে তিনি অনুপ্রাণিত হতে পারেন, কিন্তু বাংলা সাহিত্যেও যে এরকম অনুপম রসসৃষ্টি সম্ভব তা সুকুমার দেখিয়ে দিলেন। এই গল্পটি যেন অলস পাঠকের প্রতি এক দুর্বিনীত লেখকের অনুপম চ্যালেঞ্জ। আর ‘দানের হিসেব’ গল্পে কিপটে রাজার কি দশা হয়েছিল? দুর্ভিক্ষে রাজা দান করতে চান না। তখন এক বুদ্ধিমান ফকির বলেছিল – সে রাজাকে দিয়ে দান করাবে। রাজার কাছে গিয়ে প্রার্থনা করল, – “মহারাজ, ফকিরের কি লোভ থাকে? আমি বিশ পঞ্চাশও চাইনে, দু’ চার টাকাও চাইনে। আজ আমায় একটি পয়সা দিন, তারপর ঊনত্রিশ দিন দ্বিগুণ করে দেবার হুকুম দিন।” এর ফল স্বরূপ আমরা দেখতে পেলাম একেবারে যা তা পরবর্তী কালে তথ্য প্রযুক্তির গোড়ার কথা। ১ পয়সা, ২ পয়সা, ৭ দিনের মাথায় এসে হল – ১ টাকা! আরো ১৬ দিন পরে অর্থাৎ, ২৩ দিনের মাথায় এসে হল ৬৫,৫৩৬ টাকা!!  সেই যে কম্প্যুটারের ভাষায় যে সংখ্যাটিকে বলা হয়ে থাকে 64K বা 65K যা হল 216!! প্রথম যখন গল্পটি পড়ি কেবল চমৎকৃত হয়েছিলাম। পরবর্তীকালে যখন প্রথম কম্প্যুটার পাঠকালীন এই তথ্য জানতে পারলাম, অবিশ্বাস্য শোনালেও প্রথমেই মনে পড়েছিল এই গল্পটির কথা। তখন আপ্লুত হয়েছিলাম বললেও কম বলা হবে।

        -৩-

আচ্ছা, হৃষীকেশ মুখার্জী পরিচালিত, অমল পালেকর – উৎপল দত্ত অভিনীত সেই “গোলমাল” ছবিটির কথা মনে পড়ে কি? উৎপল দত্ত মনে করতেন, ‘গোঁফ’ হচ্ছে পৌরুষের প্রতীক আর যে পুরুষমানুষ গোঁফ কাটতে পারে সে এত নিষ্ঠুর যে মানুষ খুন করতেও দ্বিধা বোধ করবে না! কি অদ্ভুত ধারণা, তাই না! নিজের পৌরুষ যে তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা, বিশাল গোঁফ-জোড়া নয়, একথা বোঝাতে তাঁর পরিবার পরিজনের খুব কষ্ট হয়েছিল। সম্ভবত, হৃষীকেশ এর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন সুকুমারের ‘গোঁফ-চুরি’ কবিতার নায়ক – ‘হেড অফিসের বড়বাবু’!

 

 

তাই বোধহয় কেউ কখনো লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করলেই আমরা ‘খুড়োর কল’ এর উদাহরণ টানি। পাশের বাড়িতে ‘ভীষ্মলোচন শর্মা’ গানের গুঁতোতে আমাদের অস্থির করেন। “ট্যাঁশ” এখন আর শুধু গরু নয়, ‘হারুদের আফিস’ ছেড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জায়গায় -! “Back Handed Compliment with heavy sarcasm” তার নমুনাও তো দেখলাম- “মন্দ নয় সে পাত্র ভাল, রং যদিও বেজায় কালো”!!

বাংলা ভাষার দুর্বলতাও তাঁর মাথাতে ছিল। এক ক্রিয়াপদ “খাই” দিয়ে পেটুক বাঙালী যে কত কাজ সমাধা করে তার এক অনুপম চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন ‘খাই খাই’ কবিতাতে। শব্দকল্পদ্রুম কবিতাতে “ঠাস ঠাস দুমদাম —”ও এর এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সর্বোত্তম সম্ভবত: শেষ পংক্তিটি,

“হৈ হৈ মার মার, বাপ বাপ, চীৎকার

মালকোঁচা মারে বুঝি? সরে পড় এইবার।”

        কি সর্বনাশ! ‘মার’ ধাতু দেখলেই মনে পড়ে ‘লড়াই-ক্ষ্যাপা’র কথা, কিন্তু বাবুসাজে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন হল মালকোঁচা মেরে ধুতি পরা। তাতেই নাকি আতঙ্ক, সুকুমারের পক্ষেই সম্ভব।

আর ‘খাই-খাই’ কবিতাতে তো খাদ্যরসিক বাঙালীদের প্রায় বাপান্ত করে ছেড়েছেন! কি সব সাংঘাতিক প্রশ্ন, “যুদ্ধে যে গুলি খায় গুলিখোর সেও কি?” অনবদ্য ভাবে দেখিয়েছেন বাংলাভাষার ক্রিয়াপদের অপ্রতুলতাকে,

“জল খায়, দুধ খায়, খায় যত পানীয়,

জ্যাঠাছেলে বিড়ি খায়, কান ধরে টানিও।”

 

আমরা বাঙালীরা সবকিছুই খাই, চা ও সিগারেট ও! এই নিয়ে খুব হাসাহাসি হয় সর্বভারতে। আমাদের পিতৃভাষা ইংরেজিতে, – They eat food, drink liquid and smoke cigarette. আমরা কিন্তু ‘খাই যত পানীয়”!!  বাংলা ভাষা কে একটু ‘কান ধরে টেনে’ দিলেন কি তিনি? Yes Sir!!

ভীতু মানুষকে সাহস যোগানো বড়ই ভালো কাজ, কিন্তু সেই সাহস যোগানোর মধ্যে যদি ফাঁদে ফেলার অভিসন্ধি কাজ করে তা কিন্তু মারাত্মক। উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে কোনরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রচলনের আগেও সাহস যোগাতে কর্তৃপক্ষ বলে থাকেন – এটা নাকি শুধুমাত্রই পদ্ধতিগত ব্যাপার, এর রূপায়ণ হবে শুধুমাত্র ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে। ঠিক যেন, –

হাতে আমার মুগুর আছে তাই কি হেথায় থাকবে না?

মুগুর আমার হাল্কা এমন মারলে তোমার লাগবে না।”

-৪-

 

এই প্রতিভার আর এক খুব উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি – ‘অবাক জলপান’!

এই নাটকটি খুবই জনপ্রিয়। শৈশবকালে অথবা কৈশোরকালে এই নাটকে অভিনয় করেননি, এরকম বাঙালী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা নগণ্য। কিন্তু এই নাটকটি কি শুধুই শিশু মনোরঞ্জক? একটু ভেবে দেখলে কি এর থেকে আমরা আরো কিছু পেতে পারি? আর একটু অন্যভাবে মূল্যায়ন করতে পারি সুকুমারের অসাধারণ সৃষ্টিশীলতাকে?  সেই চেষ্টাই করতে চলেছি।

অনেকের ধারনা ‘সৃষ্টিশীল’ কর্মের মধ্যে বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক বা মননশীল তথ্যানুসন্ধান করলে বা অন্য কিছু ‘অর্থ’ সন্ধানের জন্য বিশ্লেষণ করলে সে অন্বেষণ,  সৃষ্টির শৈল্পিক ‘রসাস্বাদনে’ বাধাদান করতে পারি। আমাদের ধারণা ঠিক এর বিপরীত মেরুতে। আমরা ভাবি যে কোন সার্থক শিল্পের সম্পূর্ণ অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ, সেই স্রষ্টার সৃষ্টি বৈচিত্র্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। সহজ ভাষাতে যাকে বলা যেতে পারে, – ‘গাছের ও খাব, তলারও কুড়বো!’

আধুনিক পরিচালন ব্যবস্থার পরিভাষাতে (Management Terminology) যাকে বলা চলে, Collapse of communication – ‘অবাক জলপান’ তারই এক সার্থক, শিল্পসম্মত, অভূতপূর্ব নাট্য রূপান্তর। ‘অবাক জলপান’ নিয়ে আমাদের বিস্তারিত আলোচনার মূল লক্ষ্যই তাই।

একটি সংযোগ ব্যবস্থায় আমরা দেখি মূলত তিনটি প্রধান চরিত্র, প্রেরক (Transmitter), মাধ্যম (Medium), ও সংগ্রাহক (Receiver)। কাজেই যে কোন সংযোগ ব্যবস্থার সাফল্যে তিনজনেরই সফল ভূমিকা থাকে, কিন্তু ব্যর্থতাতে কোন একটির ভূমিকাই যথেষ্ট।

Fig_1

“অবাক জলপান” এ পথিক অর্থাৎ ট্রান্সমিটারের কোন দোষ নেই, ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি মাধ্যম আর শ্রোতার।

মনে করা যাক প্রথম দৃশ্যটি –

পথিক :  মশাই, একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন ?

ঝুড়িওয়ালা :  জলপাই ? জলপাই এখন কোথায় পাবেন ? এ ত জলপাইয়ের সময় নয় । কাঁচা আম নিতে চান দিতে পারি

পথিক :  না না, আমি তা বলিনি

ঝুড়িওয়ালা :  না, কাঁচা আম আপনি বলেন নি, কিন্তু জলপাই চাচ্ছিলেন কিনা, তা ত আর এখন পাওয়া যাবে না, তাই বলছিলুম

পথিক :  না হে আমি জলপাই চাচ্ছিনে

আচ্ছা, পথিক কিন্তু পরিষ্কার করে বলেছে, জল আর পাই দুটি শব্দকে আলাদা করে, ঝুড়িওয়ালা কিন্তু মিশিয়ে ‘জলপাই’ করেছে। একটাই কারণ, ঝুড়িওয়ালার কাজ কারবার ফল নিয়ে। ‘জলপাই’ শব্দটি তার অতি পরিচিত। সুতরাং তার স্মৃতি থেকে এই শব্দই তার মাথায় এসেছে, সে উপেক্ষা করেছে পথিকের উচ্চারিত শব্দের দ্যোতনাকে। আমরা মনে করে দেখতে পারব অনেক সময় এই বিভ্রান্তির শিকার হয়েছি আমরাও। তার একটা কারণ আমাদের কাছে জমে থাকা শব্দের ভাণ্ডার। আমাদের নিত্য ব্যবহৃত শব্দের দিকেই আমাদের ঝোঁক, পক্ষপাত (bias) বেশী, কাছাকাছি অনুরূপ কোন শব্দবন্ধকে পেলেই বেশী না শুনে আমাদের মন সেটিকেই অনুমান করে নেয়। এই ব্যাপারটি যেভাবে আলোচিত হয় তা হল-

Bias typically involves a leaning or predisposition on an issue that may inhibit being neutral when communicating with others. When bias exists in attitudes, it is often reflected in the language and the way in which individuals interact with each other.”  —- 5

আমাদের ঝুড়িওয়ালা একজন মানুষ যার উপলব্ধির (Perception) জগৎটি পথিকের থেকে আলাদা।

আধুনিক পঠন পদ্ধতিতে তাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে –

Perception, or the process by which individuals mentally organize sensory information in their environment to give it meaning, can help us understand why things might not always be as they appear. Perception is a process of observation and interpretation —- 6

ঝুড়িওয়ালা অবশ্য শেষে পথিককে ই দোষারোপ করে চলে যায় –

“দেখছেন ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছি তবে জল‌‌ই বা চাচ্ছেন কেন? ঝুড়িতে করে কি জল নেয়? লোকের সঙ্গে কথা কইতে গেলে একটু বিবেচনা করে বলতে হয়”!!

‘বিবেচনা’!! অর্থাৎ দোষ পথিকের। এখন ঝুড়িওয়ালার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে তা হতেও পারে। অর্থাৎ প্রেরকের শ্রোতার কথা ভেবে আর একটু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।

সংযোগ ব্যবস্থার বিফলতার সবচেয়ে বড় কারণ হল শ্রোতার অমনোযোগ। বারংবার আমাদের সতর্ক করা হয়, কান দুটো আর মুখ একটা – কাজেই বাপু হে, যত বলবে তার দ্বিগুণ শুনবে। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী!!  পরবর্তী চরিত্রে আমরা পরপর দুই চোরা কে দেখতে পাই। দুই বৃদ্ধ যারা একে অপরকে টক্কর দিতে ব্যস্ত। প্রথম বৃদ্ধর কাছে অত্যাচারিত হয়ে পথিক বলে –

“ আমি জল চাইছিলুম, তা উনি সে কথা কানেই নেন না- কেবলই সাত পাঁচ গপ্‌‌প করতে লেগেছেন।”

দ্বিতীয় বৃদ্ধ আবার আরো এককাঠি ওপরে – তিনি তৃষ্ণার্ত, অবসন্ন পথিককে “জল” শব্দটির নানাবিধ প্রয়োগ বোঝান, আক্ষরিক আর আলঙ্কারিক।

“বিষ্টির জল, ডাবের জল, নাকের জল, চোখের জল, জিবের জল, হুঁকোর জল, ফটিক জল, রোদে ঘেমে জ-ল, আহ্লাদে গলে জ, গায়ের রক্ত জ, বুঝিয়ে দিলে যেন জ-ল কটা হয় ? গোনোনি বুঝি?

শব্দের আলঙ্কারিক প্রয়োগ খুবই লোভনীয়, কিন্তু তা অনেক সময় সাধারণ বাক্যালাপে বাধা দিতে পারে। এখানে ঠিক তাই হয়েছে।

এবার আমরা “অবাক জলপান” কে আরো একটু নেড়েচেড়ে দেখলে আর একটি তত্ত্বের সফল প্রয়োগ দেখতে পারব। একই শব্দের দুরকম অর্থ ও কিন্তু ভীষণ ভাবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। সেই বিখ্যাত অতুলপ্রসাদী গানটি মনে পড়ে যায়,

“করি তুই আপন আপন হারালি যা ছিল আপন ; / এবার তোর ভরা আপণ বিলিয়ে দে তুই যারে তারে”

সাধারণ শ্রোতার কাছে দ্বিতীয় আপণের অর্থ যে দোকান তা হয়তো একটু অধরা থেকে যেতে পারে। সাহিত্যের যা মাধুর্য তা কার্যক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। মনে পড়ে আর কে লক্ষণ কৃত একটি অনবদ্য কার্টুন – একটি ইন্টারভিউ এর ছবি! প্রার্থী মাটিতে বসে একটি চেয়ার আঁকছে – হতভম্ব পরীক্ষকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন – “We only told him to draw a chair and sit”!! “Draw” এই ক্রিয়াপদের দুই অর্থ, – দুপক্ষ দুরকম ধরে নিয়েছেন – আর তাতেই ঘটে গেছে চরম সর্বনাশ!

এত কথা বললাম কারণ ‘অবাক জলপান’ এর পরবর্তী বিভ্রান্তি এই নিয়েই।

পথিক :  না:, আর জলটল চেয়ে কাজ নেই এগিয়ে যাই, দেখি কোথাও পুকুরটুকুর পাই কি না।

          [ লম্বা লম্বা চুল, চোখে সোনার চশমা, হাতে খাতা পেন্সিল, পায়ে কটকী জুতা, একটি ছোকরার প্রবেশ ]

 লোকটা নেহাৎ‌ এসে পড়েছে যখন, একটু জিজ্ঞাসাই করে দেখি। মশাই, আমি অনেক দূর থেকে আসছি, এখানে একটু জল মিলবে না কোথাও?

ছোকরা :  কি বলছেন ? ‘জল’ মিলবে না? খুব মিলবে। একশোবার মিলবে! দাঁড়ান, এক্ষুনি মিলিয়ে দিচ্ছি জল চল তল বল কল ফল মিলের অভাব কি ? কাজল-সজল-উজ্জ্বল জ্বলজ্বল-চঞ্চল চল্‌‌ চল্‌, আঁখিজল ছল্‌‌ছল্‌, নদীজল কল্‌‌কল্‌, হাসি শুনি খল্‌‌খল্‌‌, অ্যাঁকানল বাঁকানল, আগল ছাগল পাগল কত চান ?

সর্বনেশে কাণ্ড!! “মিল” ক্রিয়াপদটির অর্থ তৃষ্ণার্ত পথিকের কাছে যা উৎসাহী কবির কাছে তা আদপেই নয়। ঠিক যেমন আগের আলোচিত কার্টুনের মতই। কবির ‘মিল’ আর পথিকের ‘মিল’ – দুয়ের মধ্যেই বিস্তর ‘অমিল’!

একই শব্দের দু রকম অর্থ সাহিত্যে কৌতুকপ্রদ। অনুপ্রাস এর সৃষ্টিও তার থেকেই আর তা সাহিত্যের এক বিশেষ অলংকার। সাহিত্যে হলেও বিজ্ঞানে তা কিন্তু আদৌ অভিপ্রেত নয়।

এই কারণেই দেখা যায় বিজ্ঞানের পরিভাষার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা থাকে, সর্বক্ষেত্রেই। পদার্থবিদ্যাতে “ভর” আর “ভার” আলাদা, যেমন আলাদা গণিতে “বৃত্ত”, “উপবৃত্ত” এবং “অধিবৃত্ত” বা জীববিদ্যাতে – “শিরা” বা “ধমনী” !! এই পরিভাষা কিন্তু কেউ ইচ্ছে করলেই পাল্টাতে পারবে না। এই জন্যই তা “সর্বসম্মত” করার জন্য নথিভুক্ত করা হয়।

শুধু বিজ্ঞান কেন, যে কোন চুক্তিপত্রে বা কোন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের প্রথমেই পরিভাষাগুলিকে যে একদম পরিষ্কার ভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় তারও কারণ এটাই – সব পক্ষের কাছেই যাতে সেই পরিভাষা যথাসম্ভব এক অর্থ বহন করে। এখানে কোনরকম ভিন্ন প্রয়োগ হলেই মুশকিল – সেই প্রার্থী কে চেয়ার ‘টেনে’ বসার বদলে ‘এঁকে’ বসতে হবে!!

শেষ পর্বেও ঘটনা একই প্রায় – এবার চরিত্র এক বৈজ্ঞানিক –

পথিক :  আজ্ঞে , জল তেষ্টায় বড় কষ্ট পাচ্ছি তা একটু জলের খবর কেউ বলতে পারলে না ।

মামা :  (তাড়াতাড়ি ঘরের দরজা খুলিয়া) কেউ বলতে পারলে না? আসুন, আসুন । কি খবর চান, কি জানতে চান, বলুন দেখি ? সব আমায় জিজ্ঞেস করুন, আমি বলে দিচ্ছি । [ ঘরের মধ্যে টানিয়া ল‌‌ওন ভিতরে নানারকম যন্ত্র, নকশা, রাশি রাশি ব‌‌ই]

কি বলছিলেন ? জলের কথা জিজ্ঞেস করছিলেন না?

পথিক :  আজ্ঞে হ্যাঁ, সেই সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে আসছি

মামা :  আ হা হা ! কি উৎসাহ ! শুনেও সুখ হয় । এ রকম জানবার আকাঙ্ক্ষা কজনের আছে, বলুন ত? বসুন ! বসুন ! [কতকগুলি ছবি, ব‌‌ই আর এক টুকরা খড়ি বাহির করিয়া জলের কথা জানতে গেলে প্রথমে জানা দরকার, জল কাকে বলে, জলের কি গুণ

“জলের খবর” !!  – বৈজ্ঞানিকের কাছে এই শব্দবন্ধের তাৎপর্যই অন্যরকম। তাঁর ধারণা খবর বলতে, “বৈজ্ঞানিক তথ্যসমূহ”!!  তিনি সবিস্তারে ব্যাখ্যা করতে চান জলের বৈজ্ঞানিক গুণাবলী, তার বিভিন্ন উৎস,- বেচারি তৃষ্ণার্ত পথিক যে ‘জলের খবর’ বলতে এক গ্লাস সাদা ঠাণ্ডা জল এর ‘সন্ধান’ এর কথা বলছেন তা বুঝতে তিনি অক্ষম। পরে অবশ্য পথিক ও চালাক হয়ে মোক্ষম দাবাই প্রয়োগ করে কার্য সিদ্ধ করেন।

একই শব্দের দুই অর্থ হওয়ার ফলে মজা ও যেমন হয়, তেমনি আবার তা একটু হৃদয়বিদারক ও হতে পারে। ধরা যাক এক বাঙালী কন্যা স্বজাতির প্রেমে না মজে অন্য ভাষার প্রেমিক পাকড়াল, বাংলা জানা সেই প্রেমিক যদি মারাঠি বা গুজরাটি হয়, কোন সমস্যা নেই, – কিন্তু উৎকলদেশীয় প্রেমিককে যদি ললনার বাঙালী বন্ধুবান্ধব এমনকি ঠাট্টা করেও বলে বসেন, “আপনি তো মশাই ‘উড়ে’ এসে জুড়ে বসেছেন-” তা কিন্তু রীতিমত নিদারুণ হতে পারে।

 

 

ইংরেজিতেও বহু শব্দের এরকম সমস্যা হতে পারে। একটি উদাহরণ আগেই দিয়েছি। “Exploit” এই ক্রিয়াপদটিও দ্ব্যর্থক। মালিক যখন শ্রমিককে করেন, তা শোষণ, ঘোরতর অন্যায়  – কিন্তু কোন পরিচালক বা কোচ যদি কোন অভিনেতার বা খেলোয়াড়ের প্রতিভাকে পুরোমাত্রায় Exploit করেন, তা সর্বতোভাবে প্রশংসনীয়। “Run” – এই ইংরেজি শব্দটির প্রায় শতাধিক অর্থ আছে, ক্রিয়াপদ এবং বিশেষ্য রূপে। ওপরের তালিকাতে পাওয়া যাবে কয়েকটি শব্দ।

আচ্ছা, “অবাক জলপান” অনুবাদের কথা ভাবা কি যায়? সম্পূর্ণ অসম্ভব! তবে এই মূলভাবটি নিয়ে অন্যভাষাতেও একটি নাটিকা গড়ে তোলা সম্ভব যার উদ্দেশ্য হবে “মিস-কম্যুনিকেশন” কে সুন্দর ভাবে প্রতিভাত করা। তার মাধ্যমে শেখানো যেতে পারে একটি সুন্দর সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কি কি উপাদান খুবই আবশ্যক – শ্রোতার মনোযোগ, নিরপেক্ষ ও সহিষ্ণু শ্রবণ আর অবশ্যই একটি ভাষা-মাধ্যম যাতে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা খুব কম।

কিন্তু অনুবাদ তো পরের কথা!!  আমাদের বাংলাতেই তো এই সুন্দর উদাহরণটি রয়ে গেছে। বাংলাদেশের (দুই বাংলার) ছাত্রছাত্রীরা তো অনেকেই পড়াশুনো করেন সংযোগ ও জনসংযোগ নিয়ে। পাঠক্রমের অংশ রূপে এই ছোট্ট নাটিকাটি তো  বড়দের দিয়েও ভেবে-চিন্তে অভিনয় করানো যায়! আর তার সঙ্গে শিক্ষকরাও যোগ করতে পারেন আরো কিছু তত্ত্ব- তাহলে খুব সহজে এই তথাকথিত শিশু মনোরঞ্জক নাটকটি সংযোগ ব্যবস্থার একটি “সহজ পাঠ” হিসেবে রূপান্তরিত হতে পারে।

 

সূত্র –

1 – সত্যান্বেষীর সাহিত্য-প্রীতি – পল্লব চট্টোপাধ্যায় – http://www.abasar.net/sharadinduPallab.html

2 – কবিতা কার জন্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় – পরম্পরা – জানুয়ারি – ২০১১, পৃ – ৪১

3 – আধুনিক বাংলা কবিতা – এম সি সরকার, এপ্রিল ২০১৩,  – পৃ -৩৬ – ৩৯

4 –‘খেয়াল রসে’ আজও সবাই মজে আছে – শেখর বসু – http://www.abasar.net/sukumar_sekhar.html

5 – http://www.inclusion.msu.edu/Education/BiasFreeCommunication.html

6 –http://study.com/academy/lesson/perception-bias-in-communication-within-organizations.html

One thought on “আমাকে ভাবায় – সুকুমার রায়

  1. পড়ে দারুণ লাগল। সুকুমার রায়কে আরও ভালো করে জানলাম ও বুঝলাম। ধন্যবাদ দাদা।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s